Tuesday, 31 May 2016

বাণী ও রচনা--স্বামী বিবেকানন্দ

যদি এই ব্রহ্মাণ্ড অনন্ত শক্তির বিকাশ হয়, তবে প্রলয়কালেও সেই অনন্ত শক্তি সঙ্কুচিতভাবে থাকিবে,ইহা স্বীকার করিতে হইবে ৷ অন্য কোন ভাব সম্ভব নয় ৷ অতএব ইহা নিশ্চিত যে,প্রত্যেক আত্মাই  অনন্ত ৷ আমাদের পদতলসঞ্চারী ক্ষুদ্রতম কীট হইতে মহত্তম সাধু পর্যন্ত সকলেরই ভিতর অনন্ত শক্তি, অনন্ত পবিত্রতা ও সমুদয় গুণই অনন্ত পরিমাণে রহিয়াছে ৷ প্রভেদ কেবল প্রকাশের তারতম্যে ৷ কীটে সেই মহাশক্তির অতি অল্প পরিমাণ বিকাশ হইয়াছে, তোমাতে তাহা অপেক্ষা অধিক, আবার অপর একজন দেবতুল্য মানবে তাহা অপেক্ষা অধিকতর শক্তির বিকাশ হইয়াছে -- এইমাত্র প্রভেদ ৷ কিন্তু সকলের মধ্যেই সেই এক শক্তি রহিয়াছে ৷...... কেবল এই কপাট, দেহরূপ এই কপাট আমাদের যথার্থ ও পূর্ণ বিকাশ হইতে দিতেছে না ৷ আর যতই এই দেহের গঠন উন্নত হইতে থাকে,যতই তমোগুণ রজেগুণে এবং রজোগুণ সত্ত্বগুণে পরিণত হয়,   ততই এই শক্তি  ও শুদ্ধত্ব প্রকাশিত হইতে  থাকে;  এই জন্যই আমরা পানাহার সম্বন্ধে এত সাবধান ৷

বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড,  পৃ: ৩১২

Monday, 30 May 2016

শিক্ষা (২)..... স্বামী বিবেকানন্দ

এই জগতে আমরা যে-সকল জ্ঞানলাভ করি, তাহারা কোথা হইতে আসে? উহারা আমাদের ভিতরেই রহিয়াছে ৷ কোন জ্ঞান কি বাহিরে আছে? -- আমাকে এক বিন্দু দেখাও তো ৷ জ্ঞান কখনো জড়ে ছিল না, উহা বরাবর মানুষের ভিতরেই ছিল ৷ জ্ঞান কেহ কখনো সৃষ্টি করে নাই; মানুষ উহা আবিষ্কার করে, ভিতর হইতে উহাকে বাহির করে, উহা ভিতরেই রহিয়াছে ৷ এই যে ক্রোশব্যাপী বৃহৎ বটবৃক্ষ, তাহা ঐ সর্ষপবীজের অষ্টমাংশের তুল্য ক্ষুদ্র বীজে ছিল -- ঐ মহাশক্তিরাজি উহার ভিতরে নিহিত রহিয়াছে ৷ আমরা জানি, একটি জীবাণুকোষের ভিতর সকল শক্তি, প্রখর বুদ্ধি কুণ্ডলীকৃত হইয়া অবস্থান করে; তবে অনন্ত শক্তি কেন না তাহাতে থাকিতে পারিবে? আমরা জানি, তাহা আছে ৷..... আমাদের ভিতর  শক্তি পূর্ব হইতেই অন্তর্নিহিত ছিল অব্যক্তভাবে, কিন্তু উহা ছিল নিশ্চয়ই ৷

বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড, পৃ: ২৭১-৭২

Sunday, 29 May 2016

প্রেম..... স্বামী বিবেকানন্দ

প্রেমকে আমরা একটি ত্রিকোণরূপে প্রকাশ করিতে পারি, উহার কোণগুলিই যেন উহার তিনটি অবিভাজ্য বৈশিষ্ট্যের প্রকাশক ৷ তিনটি কোণ ব্যতীত একটি ত্রিকোণ বা ত্রিভুজ সম্ভব নয় আর এই তিনটি লক্ষ্মণ ব্যতীত প্রকৃত প্রেমও সম্ভব নয় ৷ প্রেমরূপ এই ত্রিকোণের একটি কোণ : প্রেমে কোন দর-কষাকষি বা কেনাবেচার ভাব নাই ৷ যেখানে কোন প্রতিদানের আশা থাকে, সেখানে প্রকৃত প্রেম সম্ভব নয়;  সে-ক্ষেত্রে  উহা কেবল দোকানদারিতে পরিণত হয় ৷.... কোন বরলাভের জন্য, এমন কি মুক্তিলাভের জন্যও ভগবানের উপাসনা করা অধম উপাসনা! প্রেম কোন পুরস্কার চায় না, প্রেম সর্বদা প্রেমেরই জন্য ৷..... প্রেমরূপ ত্রিকোণের দ্বিতীয় কোণ : প্রেমে কোনরূপ ভয় নাই ৷ যাহারা ভগবানকে ভয়ে ভালবাসে,তাহারা মনুষ্যাধম; তাহাদের মনুষ্যভাব এখনও পূর্ণ বিকশিত হয় নাই ৷ তাহারা শাস্তির ভয়ে ভগবানকে উপাসনা করে ৷..... ভগবানকে দণ্ডের ভয়ে উপাসনা করা অতি নিম্নশ্রেণীর উপাসনা ৷..... প্রেম স্বভাবতই সমুদয় ভয়কে জয় করিয়া ফেলে ৷...... প্রেমরূপ ত্রিকোণের তৃতীয় কোণ : প্রেমে প্রতিদ্বন্দ্বীর স্থান নাই ৷ প্রেমিকের আর দ্বিতীয় ভালবাসার পাত্র থাকিবে না, কারণ প্রেমেই প্রেমিকের সর্বোচ্চ আদর্শ রূপায়িত ৷ যতদিন না ভালবাসার পাত্র আমাদের সর্বোচ্চ আদর্শ হইয়া দাঁড়ায়, ততদিন প্রকৃত প্রেম সম্ভব নয় ৷
বাণী ও রচনা, ৪র্থ খণ্ড, (ভক্তিযোগ)

পুণ্যভূমি ভারত-স্বামী বিবেকানন্দ

ভারত পুণ্যভূমি, কর্মভূমি ৷.... যদি এই পৃথিবীর মধ্যে এমন কোন দেশ থাকে,যাহাকে 'পুণ্যভূমি' নামে বিশেষিত করা যাইতে পারে -- যদি এমন কোন স্থান থাকে যেখানে পৃথিবীর সকল জীবকেই তাহার কর্মফল ভুগিতে আসিতে হইবে -- যেখানে ঈশ্বরের অভিমুখী জীবমাত্রকেই পরিণামে আসিতে হইবে -- যেখানে মনুষ্যজাতির ভিতর সর্বাপেক্ষা অধিক ক্ষমা, দয়া, পবিত্রতা, শান্তভাব প্রভৃতি সদ্ গুণের বিকাশ হইয়াছে -- যদি এমন কোন দেশ থাকে, যেখানে সর্বাপেক্ষা অধিক আধ্যাত্মিকতা ও অন্তর্দৃষ্টির বিকাশ হইয়াছে, তবে নিশ্চয় বলিতে পারি, তাহা আমাদের মাতৃভূমি -- এই ভারতবর্ষ ৷ অতি প্রাচীনকাল হইতেই এখানে বিভিন্ন ধর্মের সংস্থাপকগণ আবির্ভূত হইয়া সমগ্র পৃথিবীকে বারংবার সনাতন ধর্মের পবিত্র আধ্যাত্মিক বন্যায় ভাসাইয়া দিয়াছেন ৷ এখান হইতেই উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম -- সর্বত্র দার্শনিক জ্ঞানের প্রবল তরঙ্গ বিস্তৃত  হইয়াছে ৷ আবার এখান হইতে তরঙ্গ উত্থিত হইয়া পৃথিবীর জড়বাদী সভ্যতাকে আধ্যাত্মিকতায় পূর্ণ করিবে ৷ অন্যান্য দেশের লক্ষ লক্ষ নরনারীর হৃদয়দগ্ধকারী জড়বাদরূপ  অনল নির্বান করিতে যে জীবনপ্রদ বারির প্রয়োজন, তাহা এখানেই রহিয়াছে ৷ বন্ধুগণ,  বিশ্বাস করুন ভারতই আবার পৃথিবীকে আধ্যাত্মিক তরঙ্গে প্লাবিত করিবে ৷
বাণী ও রচনা, ৫ম খণ্ড, (ভারতে বিবেকানন্দ )

শিক্ষা----স্বামী বিবেকানন্দ (১)

যে-কোন উপদেশ দুর্বলতা শিক্ষা দেয়, তাহাতে আমার বিশেষ আপত্তি; নর-নারী, বালক - বালিকা যখন দৈহিক মানসিক বা আধ্যাত্মিক শিক্ষা পাইতেছে, আমি তাহাদিগকে এই এক প্রশ্ন করিয়া থাকি -- তোমরা কি বল পাইতেছ? কারণ আমি জানি, একমাত্র সত্যই বল বা শক্তি প্রদান করে ৷ আমি জানি, সত্যই একমাত্র প্রাণপ্রদ, সত্যের দিকে না গেলে আমরা কিছুতেই বীর্যবান হইব না, আর বীর না হইলে সত্যেও  যাওয়া যাইবে না ৷ এইজন্যই যে-কোন মত, যে-কোন শিক্ষাপ্রণালী মনকে ও মস্তিষ্ককে দুর্বল করিয়া ফেলে, মানুষকে কুসংস্কারাবিষ্ট করিয়া তোলে, যাহাতে মানুষ অন্ধকারে হাতড়াইয়া বেড়ায়, যাহা সর্বদাই মানুষকে সকলপ্রকার বিকৃতমস্তিষ্কপ্রসূত অসম্ভব আজগুবী ও কুসংস্কারপূর্ণ বিষয়ের অন্বেষণ করায় -- আমি সেই প্রণালীগুলি পছন্দ করি না, কারণ মানুষের উপর তাহাদের প্রভাব বড় ভয়ানক, আর সেগুলিতে কিছুই উপকার হয় না, সেগুলি নিতান্ত নিষ্ফল ৷
বাণী ও রচনা, ২য় খণ্ড,  পৃ: ২১৬ (জ্ঞানযোগ)

Friday, 27 May 2016

Quotation of Swamiji..........

My boy, when death is inevitable, is it not better to die like heroes than as stocks and stones? And what is the use of living a day or two more in this transitory world? It is better to wear out than  to rust out --- specially for the sake of doing the least good to others. 

Tuesday, 17 May 2016

যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে



চেতনা - অন্তঃকরণবৃত্তি, জ্ঞানাত্মিকা মনোবৃত্তি ৷ চেতনা স্থূলে নামরূপ আকারে পরিব্যক্ত; সূক্ষ্মে প্রাণশক্তিরূপে এবং কারণে অব্যক্ত বীজরূপে অবস্থিত মা চৈতন্যরূপিণী ৷

'সারদে জ্ঞানদায়িকে ৷' শ্রীমা ছিলেন প্রজ্ঞা ও বিদ্যারূপিণী এবং জ্ঞানদায়িনী ৷ তিনি বহু নরনারীকে দীক্ষা ও উপদেশের দ্বারা তাদের অন্তর্নিহিত চৈতন্যকে জাগিয়ে দিয়েছেন ৷ শাস্ত্র বলেন, 'জ্ঞানাদেব মুক্তিঃ' (জ্ঞানেই মুক্তি )৷ মা বলেছেন : ''বাসনাই সকল দুঃখের মূল, বার বার জন্মমৃত্যুর কারণ,  আর মুক্তিপথের অন্তরায় ৷..... নির্বাসনা যদি হতে পার, এক্ষুনি (তত্ত্বজ্ঞান) হয় ৷''

মা অন্তরঙ্গদের আশীর্বাদ করতেন, ''জ্ঞান চৈতন্য হোক ৷'' কোনও সন্তানদের বক্ষঃস্থল ও মস্তকে জপ করে দিতেন;  দু একস্থলে পৃষ্ঠদেশে হাত  বুলিয়ে 'কুণ্ডলিনী জাগুক' বলে আশীর্বাদ করতেন ৷